Class VII History

 

ীতগোবিন্দম

বিখ্যাত গীতগোবিন্দ কাব্যটি দ্বাদশ শতাব্দীতে গৌড়রাজ লক্ষ্মণসেনের সভাকবি জয়দেব রচনা করেন। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত একটি শ্রেষ্ঠ গীতিকাব্য।

কাব্যের মূল বিষয়বস্তু

·        রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলা

·        বৃন্দাবনে কৃষ্ণের রাসলীলা ও রাধার বিরহ

·        ভক্তি ও প্রেমের মধুর প্রকাশ

গঠন ও বিশেষত্ব

·        মোট ১২টি সর্গ বা অধ্যায়ে বিভক্ত

·        ২৪টি প্রবন্ধ ও অষ্টাপদী পদে রচিত

·        বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির অনুপ্রেরণা

 

বিক্রম শীল মহাবিহার

প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত বিক্রমশীলা মহাবিহার বা বিশ্ববিদ্যালয়টি অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগে বা নবম শতাব্দীর শুরুতে পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুর জেলায় অবস্থিত ছিল।

 

বিক্রমশীলা মহাবিহারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

  • প্রতিষ্ঠাতা: পাল সম্রাট ধর্মপাল
  • সময়কাল: অষ্টম শতকের শেষ থেকে নবম শতকের শুরু
  • স্থান: বর্তমান বিহারের ভাগলপুর জেলার আন্টচক গ্রাম
  • বিশেষত্ব: এটি বৌদ্ধধর্মের তন্ত্রযান বা তান্ত্রিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল।
  • খ্যাত পণ্ডিত: এখান থেকে শিক্ষা লাভ করেছিলেন অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
  • ধ্বংস: ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে (আনুমানিক ১১৯৩ সালে) ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির আক্রমণে এটি ধ্বংস হয়।

প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত বিক্রমশীলা মহাবিহার বা বিশ্ববিদ্যালয়টি অষ্টম শতাব্দীর শেষভাগে বা নবম শতাব্দীর শুরুতে পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বর্তমান ভারতের বিহার রাজ্যের ভাগলপুর জেলায় অবস্থিত ছিল।

পাল শিল্পরীতি


পাল যুগের শিল্পরীতিকে প্রাচ্য শিল্পরীতি (বা পাল শৈলী) বলা হয়। এই শিল্পরীতি মূলত অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে বাংলা ও বিহার অঞ্চলে বিকাশ লাভ করেছিল।

প্রধান বৈশিষ্ট্য ও রূপ

·        ভাস্কর্য: পাল যুগে ব্রোঞ্জ ও পাথরের নিখুঁত ভাস্কর্য তৈরি হতো। এগুলির পেছনে গুপ্ত যুগের প্রভাব থাকলেও এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল।

·        চিত্রকলা: তালের পাতার পুথিতে আঁকা চিত্রগুলি পাল মিনিয়েচার বা পুথিচিত্র নামে পরিচিত।

·        স্থপতি: পাহাড়পুর মহাবিহারের মতো বিশাল বৌদ্ধ বিহার এই যুগের স্থাপত্যের নিদর্শন।

 

বোরোবুদুর কোথায় অবস্থিত

বোরোবুদুর Borobudur Temple ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভা প্রদেশের ম্যাগেলাং অঞ্চলে অবস্থিত [একটি বিখ্যাত নবম শতাব্দীর মহাযান বৌদ্ধ মন্দির] Borobudur Temple। এটি যোগকার্তা শহরের কাছাকাছি কেদু সমভূমিতে অবস্থিত [বিশ্বের বৃহত্তম বৌদ্ধ মন্দির] Borobudur Temple

বোরোবুদুরের বিবরণ

·        দেশ: ইন্দোনেশিয়া Borobudur

·        দ্বীপ ও প্রদেশ: জাভা দ্বীপের মধ্য জাভা (Central Java) Borobudur Temple

·        শহর/অঞ্চল: ম্যাগেলাং রিজেন্সি (Magelang) Borobudur Temple, যোগকার্তার কাছে Borobudur

·        তৈরির সময়: ৯ম শতাব্দী (শাইলেন্দ্র রাজবংশ) Borobudur Temple

·        বিশেষত্ব: এটি একটি [ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট] Borobudur এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দির Borobudur Temple

 

শিখদের ধর্মগ্রন্থ

শিখ ধর্মের প্রধান পবিত্র ধর্মগ্রন্থের নাম শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহিব (বা আদি গ্রন্থ)। শিখ ধর্মে এই গ্রন্থটিকে কোনো সাধারণ বই হিসেবে নয়, বরং তাঁদের এক চিরন্তন ও জীবন্ত গুরু হিসেবে শ্রদ্ধা করা হয়।

গ্রন্থটির মূল তথ্য

·        আদি নাম: আদি গ্রন্থ

·        পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১,৪৩০

·        লিপি: গুরুমুখী লিপি

·        সংকলন: পঞ্চম গুরু অর্জুন দেব এর আদি রূপ তৈরি করেন এবং দশম গুরু গুরু গোবিন্দ সিং এটিকে পূর্ণাঙ্গ গুরু মর্যাদা দেন।

মহম্মদ ঘুরির মৃত্যু  

মহম্মদ ঘুরি ১২০৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই মার্চ মারা যান । পাঞ্জাবের ধামিয়াক নামক স্থানে (বর্তমানে পাকিস্তানে) সন্ধের প্রার্থনা বা নমাজ পড়ার সময় অজ্ঞাতপরিচয় বা খোক্কর বিদ্রোহীদের হাতে তিনি নিহত হন ।

মৃত্যুর সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

·        তারিখ: ১৫ই মার্চ, ১২০৬

·        স্থান: ধামিয়াক (ঝিলাম নদীর কাছে)

·        কারণ: খোক্কর বা বিদ্রোহী উপজাতীয়দের আক্রমণ

 

জাঠদের বিদ্রোহ

জাঠরা মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের আমলে বিদ্রোহ করে। ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে মথুরা ও আগ্রা অঞ্চলের জাঠ কৃষকরা গোকুলা (বা গোকুল)-এর নেতৃত্বে এই বিদ্রোহ শুরু করেছিল।

বিদ্রোহের মূল কারণ

·        অত্যাচারী করনীতি: মোগল ফৌজদার ও কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের চাপ।

·        ধর্মীয় নীতি: মোগল আধিকারিক কর্তৃক স্থানীয় মন্দির ধ্বংস এবং নিপীড়ন।

প্রধান বিদ্রোহের পর্যায় ও নেতৃত্ব

·        গোকুলা (১৬৬৯): তিলপতের জাঠ জমিদার গোকুলার নেতৃত্বে প্রথম সশস্ত্র কৃষক অভ্যুত্থান ঘটে।

·        রাজারাম ও চূড়ামন (পরবর্তী পর্যায়): আওরঙ্গজেবের শাসনামলে পরবর্তী সময়ে রাজারাম এবং চূড়ামনের নেতৃত্বে জাঠ বিদ্রোহ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

 

বাজারদর নিয়ন্ত্রণ

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ইতিহাসের বিখ্যাত সুলতান আলাউদ্দিন খলজি প্রথম কঠোরহস্তে বাজার দর নিয়ন্ত্রণ নীতি চালু করেছিলেন। তবে বর্তমান আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো একজন ব্যক্তি বাজার দর নিয়ন্ত্রণ করেন না; সরকারের নির্দিষ্ট বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা বিষয়ক সংস্থাগুলো যৌথভাবে বাজারদর পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে।

ঐতিহাসিক বাজার নিয়ন্ত্রণ

·        সুলতান আলাউদ্দিন খলজি: দিল্লি সুলতানাতের এই শাসক ১২৯৬ থেকে ১৩১৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রবর্তন করেন।

·        মূল উদ্দেশ্য: কম বেতনে বিশাল স্থায়ী সেনাদল টিকিয়ে রাখা এবং সৈনিকরা যাতে কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেন তা নিশ্চিত করা।

·        কঠোর ব্যবস্থা: পণ্যের মূল্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং ওজনে কম দিলে কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য বিশেষ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছিল।

আধুনিক বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

·        সরকারি সংস্থা: বর্তমান যুগে বাজারদর কোনো একক ব্যক্তির হাতে থাকে না। সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের মাধ্যমে বাজারমূল্য তদারকি করা হয়।

·        আইন প্রয়োগ: অসাধু ব্যবসায়ী, মজুতদার ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

ভারতীয় সংবিধানের রূপকার

ভারতীয় সংবিধানের প্রধান রূপকার বা স্থপতি ছিলেন ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর (বি. আর. আম্বেদকর)। তিনি সংবিধান রচনার খসড়া কমিটির চেয়ারম্যান বা সভাপতি ছিলেন।

আম্বেদকরের অবদান

·        তিনি ১৯৪৭ সালের ২৯ আগস্ট খসড়া কমিটির দায়িত্ব নেন।

·        তিনি প্রায় ৬০টি দেশের সংবিধান পড়েন।

·        তিনি দেশের সব মানুষের অধিকার ও সমতা নিশ্চিত করেন

সংবিধান সম্পর্কিত তথ্য

·        সংবিধান তৈরি করতে সময় লাগে ২ বছর ১১ মাস ১৮ দিন।

·        এটি ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর পাস হয়।

·        এটি ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে চালু হয়।


ব্রহ্মদেয় বা অগ্রহারা

দক্ষিণ ভারতে রাজারা ব্রাহ্মণদের যে করমুক্ত জমি দান করতেন, তাকে ব্রহ্মদেয় (Brahmadeya) বা অগ্রহারা (Agrahara) বলা হতো। প্রাচীন ও মধ্যযুগে এই জমিগুলো সাধারণত চাষাবাদের আওতায় আনা হতো এবং এর থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ মন্দির বা ধর্মীয় কাজে ও ব্রাহ্মণদের জীবনযাত্রায় ব্যয় করা হতো।

জমিদান ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য

·        করমুক্ত জমি: এই জমিগুলোর ওপর সাধারণ কোনো রাজস্ব বা কর নেওয়া হতো না।

·        ব্রহ্মদেয়: রাজা বা অভিজাতরা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ব্রাহ্মণদের যে জমি বা গ্রাম দান করতেন।

·        অগ্রহারা: যে নির্দিষ্ট বসতি বা গ্রামে কেবল ব্রাহ্মণরা বসবাস করতেন এবং জমি পরিচালনা করতেন।

 

বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী

বিজয়নগর সাম্রাজ্যের প্রধান ও প্রাচীন রাজধানীর নাম ছিল হাম্পি। এটি বর্তমান ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে অবস্থিত ছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে এর রাজধানী পেনুকোন্ডা ও চন্দ্রগিরিতেও স্থানান্তরিত হয়েছিল।

রাজধানীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ

·        মূল নাম: বিজয়নগর (যার ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে হাম্পি নামে পরিচিত)

·        অবস্থান: কর্ণাটক, ভারত

·        নদী: তুঙ্গভদ্রা নদী

·        প্রতিষ্ঠা: ১৩৩৬ সালে হরিহর ও বুক্কা রায় এটি প্রতিষ্ঠা করেন।

·        ঐতিহ্য: এর ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত।

 

বিলবগ্রামের যুদ্ধ বা কনৌজের যুদ্ধ

 

১৫৪০ সালের ১৭ মে মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ও আফগান শাসক শের শাহ সুরির মধ্যে বিল্বগ্রামের যুদ্ধ (যা কনৌজের যুদ্ধ নামেও পরিচিত) সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে হুমায়ুন শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন এবং তাকে ভারত ছেড়ে নির্বাসনে যেতে হয়।

যুদ্ধের বিবরণ

·        সাল: ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দ (১৭ মে)

·        স্থান: উত্তরপ্রদেশের কনৌজ ও বিলগ্রাম অঞ্চল (বর্তমান হারদোই জেলা)

·        প্রতিপক্ষ: শের শাহ সুরি বনাম মুঘল সম্রাট হুমায়ুন

·        ফলাফল: শের শাহ সুরির জয় এবং হুমায়ুনের পরাজয়

যুদ্ধের ফলাফল ও প্রভাব

·        মুঘল সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং উত্তর ভারতে সুর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

·        পরাজিত হয়ে হুমায়ুন ১৫ বছরের জন্য দেশছাড়া বা নির্বাসিত জীবন কাটাতে বাধ্য হন।

·        এটি মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতীয় ইতিহাসে একটি অত্যন্ত নির্ণায়ক যুদ্ধ ছিল।

 

দহশালা ব্যবস্থা এর প্রবর্তক

 

মোগল সম্রাট Akbar-এর রাজস্ব মন্ত্রী রাজা টোডরমল ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে 'দহসালা ব্যবস্থা' (বা জাবতি ব্যবস্থা) প্রবর্তন করেন। এটি সম্রাট Akbar-এর শাসনকালে জমির উৎপাদন ও মূল্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি বিজ্ঞানসম্মত রাজস্ব আদায় পদ্ধতি।

দহসালা ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য

·        গত দশ বছরের ফসলের গড় উৎপাদন এবং গড় বাজারমূল্য হিসাব করে রাজস্বের হার ঠিক করা হতো।

·        জমির উর্বরতা অনুযায়ী জমিকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হতো।

·        সাধারণত নগদ অর্থে এই রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো।

মানন্দের শিষ্যবৃন্দ

মধ্যযুগের ভক্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রচারক স্বামী রামানন্দ-এর প্রধান শিষ্যদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন কবীর। তাঁর শিষ্য সম্প্রদায় জাতি, ধর্ম ও লিঙ্গভেদের ঊর্ধ্বে ছিল।

উল্লেখযোগ্য শিষ্যবৃন্দ

·        কবীর: মুসলিম তাঁতি পরিবার থেকে আসা বিখ্যাত কবি ও সন্ত।

·        রবিদাস (রাইদাস): চর্মকার বা মুচি সম্প্রদায়ের অন্তর্গত ভক্ত সাধক।

·        সেনা: পেশায় নাপিত।

·        ধন্না: জাট সম্প্রদায়ের কৃষক।

·        পিপা: রাজপুত রাজা ও সন্ত।

·        সাধনা: কসাই সম্প্রদায়ের ভক্ত।

·        এছাড়া অনন্তানন্দ, সুসুরানন্দ ও নরহরিদাস রামানন্দের অন্যান্য প্রধান শিষ্য হিসেবে পরিচিত।

 

মুঘল সম্রাটদের কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত শিখগুরুগণ

মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরের আমলে শিখ ধর্মের পঞ্চম গুরু, গুরু অর্জুন দেব-কে (Guru Arjun Dev) প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।

১৬০৬ খ্রিস্টাব্দে জাহাঙ্গিরের বিদ্রোহী পুত্র খসরুকে আশ্রয় ও আশীর্বাদ দেওয়ার অভিযোগে সম্রাট জাহাঙ্গিরের আদেশে তাঁকে বন্দি করা হয় এবং অমানুষিক নির্যাতনের পর তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তিনি ছিলেন শিখ ইতিহাসের প্রথম শহীদ গুরু।

সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

·        আদি গ্রন্থ সংকলন: গুরু অর্জুন দেব শিখদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ 'আদি গ্রন্থ' (যা পরবর্তীতে 'গুরু গ্রন্থ সাহিব' নামে পরিচিত হয়) সংকলন করেছিলেন

·        অন্যান্য মুঘল নির্যাতন: জাহাঙ্গিরের আমলে গুরু অর্জুন দেব ছাড়াও, পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট রঙ্গজেবের আমলে শিখদের নবম গুরু, গুরু তেগ বাহাদুর-কে শিরশ্ছেদ করে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

 

গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড

ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার শাসক শের শাহ সুরি বিখ্যাত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড (যা তখন 'সড়ক-ই-আজম' নামে পরিচিত ছিল) পুনর্নির্মাণ ও প্রসারিত করেন। তবে এই রাস্তার মূল ভিত্তি বা প্রাচীন রূপটি মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের আমলে 'উত্তরপথ' হিসেবে তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলে এর নামকরণ করা হয় 'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড'।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

·        প্রাচীন যুগ: মৌর্য সাম্রাজ্যের সময় তক্ষশীলা থেকে পাটলিপুত্র পর্যন্ত সংযোগকারী প্রাচীন 'উত্তরপথ' তৈরি হয়।

·        শের শাহ সুরি: ১৬ শতকে তিনি এই পথটির সংস্কার করেন এবং সোনারগাঁও থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন। যাত্রীদের সুবিধার জন্য তিনি রাস্তার পাশে সরাইখানা, কূপ ও গাছ লাগিয়েছিলেন।

·        ব্রিটিশ আমল: ১৯ শতকে (১৮৩৩ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে) ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই রাস্তাটির আধুনিকীকরণ করে এবং এর নাম দেয় 'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড'।

 

শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্যের অনুবাদক

 

'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্যটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন মধ্যযুগের কবি মালাধর বসু (যিনি 'গুণরাজ খাঁ' উপাধি পেয়েছিলেন)। তিনি ১৪৭৩ থেকে ১৪৮০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে সংস্কৃত ভাষার 'ভাগবত পুরাণ'-এর দশম ও একাদশ স্কন্ধের ওপর ভিত্তি করে এই কাব্যটি রচনা করেন।

কাব্যের মূল তথ্য

·        রচয়িতা: মালাধর বসু (গুণরাজ খাঁ)

·        মূল গ্রন্থ: সংস্কৃত 'ভাগবত পুরাণ'

·        সময়কাল: ১৪৭৩–১৪৮০ খ্রিস্টাব্দ

·        উপাধি: গৌড়েশ্বর সুলতান তাঁকে 'গুণরাজ খাঁ' উপাধি দেন।

 

পারসিক চক্রের কাজ

পারসিক চক্র (Persian Wheel) মূলত কূপ বা জলাশয় থেকে জল তোলার কাজে লাগানো হত। এটি মধ্যযুগীয় ভারতে কৃষিকাজে সেচ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ছিল।

⚙️ পারসিক চক্রের মূল কাজ ও ব্যবহার

·        কৃষিতে সেচ প্রদান: শুষ্ক বা আধা-শুষ্ক অঞ্চলে চাষাবাদের জমিতে জল সেচ দেওয়ার জন্য এটি প্রধানত ব্যবহার করা হত।

·        পশু শক্তির ব্যবহার: এই যন্ত্রটি চালানোর জন্য সাধারণত গরু, মহিষ বা বলদের মতো গৃহপালিত পশুকে বৃত্তাকারে ঘোরানো হত।

·        উন্নত প্রযুক্তি: এটি কাঠের তৈরি ছোট নাগরদোলার মতো একটি চাকা ছিল, যাতে অনেকগুলো পাত্র বা বালতি শিকল দিয়ে যুক্ত থাকত। চাকাটি ঘোরার সাথে সাথে পাত্রগুলো নিচে নেমে জল ভরে উপরে উঠে আসত এবং নির্দিষ্ট নালায় জল ঢেলে দিত।

সুলতানি ও মুঘল যুগে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই পারসিক চক্র বা 'সাকিয়া' (Saqiya) এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল।

 

চৈতন্য আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র

চৈতন্য আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ছিল নদীয়া বা নবদ্বীপ (এবং তার অংশ হিসেবে মায়াপুর) এখানেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে হরিনাম সংকীর্তন ও ভক্তি আন্দোলনের সূচনা ও প্রসার ঘটেছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে বৃন্দাবন ও পুরীও এই আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়।

প্রধান কেন্দ্র ও বিস্তার:

·        নবদ্বীপ ও মায়াপুর: চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান এবং প্রারম্ভিক সংকীর্তন আন্দোলনের মূল সূচনার ভূমি।

·        নীলাচল বা পুরী: মহাপ্রভু জীবনের শেষভাগ এখানেই কাটান, যা পরবর্তীতে উড়িষ্যা অঞ্চলে ভক্তি প্রচারের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

·        বৃন্দাবন: তাঁর নির্দেশ ও রূপ-সনাতনাদি গোস্বামীদের প্রচারের ফলে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম দর্শনের অন্যতম পীঠস্থান হয়ে ওঠে।

 

মন্তব্যসমূহ

Click here to view my others posts

DSE-3, 2023, History Honours 6th Semester Question paper of CBPBU University

B.A. History Honours 6th Semester , Core Course-13, 2023, CoochBehar Panchanan Barma University, Question Paper 📃

ভারতীয় মধ্যযুগের ইতিহাস

4th semester